হেফাজতে ১৫ সেনা কর্মকর্তা: মো. হাকিমুজ্জামান
‘গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধে’ জড়ানোর অভিযোগে সেনাবাহিনীর যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ১৫ জনকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে তাঁদের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কপি গতকাল শনিবার পর্যন্ত হাতে পায়নি সেনা সদর। গতকাল বিকেলে ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মামলাসংক্রান্ত বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান এ তথ্য জানান।
‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সংবিধানস্বীকৃত দেশের সব আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল’—এ কথা জানিয়ে মো. হাকিমুজ্জামান বলেন, ‘যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জশিট হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ১৫ জন বর্তমানে সেনা হেফাজতে রয়েছেন।
আমরা মোট ১৬ জনকে সেনা হেফাজতে আসার জন্য বলেছিলাম, তাঁদের মধ্যে ১৫ জন এসে হেফাজতে রয়েছেন।’
তিনি জানান, তিনটি মামলায় ২৫ জন সেনা কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অবসরে ৯ জন, এলপিআরে একজন আর কর্মরত আছেন ১৫ জন।
তিনি বলেন, মেজর জেনারেল কবির আত্মগোপনে গেছেন। তিনি যাতে বিদেশে চলে যেতে না পারেন, সে জন্য তৎপরতা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান বলেন, ‘গত ৮ অক্টোবর আইসিটিতে প্রথম দুটি চার্জশিট দাখিল করা হয়। এরপর তৃতীয় আরেকটি চার্জশিট জমা পড়ে। এই সংবাদটি আসা শুরু করেছে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে।
আমরা টিভি স্ক্রলের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, চার্জশিট জমা পড়েছে এবং ট্রাইব্যুনালে গ্রহণ করা হয়েছে। চার্জশিটগুলোর মধ্যে একটি ছিল গুমসংক্রান্ত—যাঁরা তখন ডিজিএফআইয়ে কর্মরত ছিলেন তাঁদের একটা বড় অংশের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। আরেকটি ছিল র্যাবের টিএফআই নিয়ে। আরো একটি অভিযোগ ছিল ৪-৫ আগস্টের রামপুরার ঘটনা নিয়ে। এরপর সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়ে গেল।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর তা নিয়ম অনুযায়ী আইজিপির কাছে চলে যায় এবং এ ক্ষেত্রে ২২ তারিখ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। তবে আমরা এখন পর্যন্ত কোনো চার্জশিটের কপি কিংবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাইনি। চার্জশিটে প্রায় ২৫ জন সেনা কর্মকর্তার নাম এসেছে। এর মধ্যে অবসরে আছে ৯ জন, এলপিআরে আছেন একজন ও কর্মরত আছেন ১৫ জন কর্মকর্তা। যাঁরা অবসরে চলে গেছেন তাঁদের প্রতি আমাদের সেনা আইন ওভাবে খাটে না।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সংবিধানস্বীকৃত বাংলাদেশের সব আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ তারিখে কর্মরত ১৫ ও এলপিআরে থাকা একজন সেনা কর্মকর্তাকে সেনা হেফাজতে আসার জন্য একটি আদেশ সংযুক্তি করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আদেশে তাঁদের বলা হয়েছে, ৯ তারিখে তাঁরা যেন ঢাকা সেনানিবাসে সেনা হেফাজতে চলে আসেন। আমরা কিন্তু এখনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাইনি বা পুলিশও আমাদের কিছু জানায়নি। এর পরও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার কারণে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এসব কর্মকর্তাকে হেফাজতে আসার জন্য আদেশ দিয়ে দেয়।’
মো. হাকিমুজ্জামান বলেন, ‘আমরা যাঁদের হেফাজতে আসতে বলেছি তাঁদের মধ্যে একজন ছাড়া সবাই রেসপন্স করেছেন। ওই একজন কর্মকর্তা ৯ তারিখ পর্যন্ত কোনো রেসপন্স করেননি। পরে ১০ তারিখে আমরা তাঁর সঙ্গে আবার যোগাযোগের চেষ্টা করি এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করি। আমরা জানতে পারি, উনি ৯ অক্টোবর সকালে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন একজন আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করার কথা বলে। কিন্তু পরে আর বাসায় ফেরত আসেননি। এরপর তাঁর সঙ্গে এবং তাঁর পরিবারেরও মোবাইল ফোনে কোনো যোগাযোগ স্থাপন হয়নি। তিনি হলেন মেজর জেনারেল কবির।’
সিটিআইবি ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক কবীর আহাম্মদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে ইলিগ্যাল অ্যাবসেন্ট হিসেবে ঘোষণা করি। এরপর গত ১০ অক্টোবর এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আরো কিছু অফিশিয়াল কাজ সম্পন্ন করি। আমরা সঙ্গে সঙ্গে ডিজিএফআই, এনএসআই ও বিজিবিকে বলেছি, তোমরা যে যেখানে আছ স্থলবন্দর, বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দর দিয়ে যেন উনি অবৈধভাবে দেশের বাইরে না যেতে পারেন। উনার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনায়ও আমরা লোক পাঠিয়েছি। উনি দেশের বাইরে চলে যেতে পারেন—এ বিষয়টি মাথায় রেখেও আমরা খোঁজ নিয়েছি। উনি যাতে দেশের বাইরে না যেতে পারেন, সে জন্য আমি নিজে ডিজি ডিজিএফআই, ডিজি এনএসআই ও ডিজি বিজিবির সঙ্গে কথা বলেছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘এখন যেসব সেনা কর্মকর্তার কথা বলা হচ্ছে, ঘটনার সময় তাঁরা র্যাব কিংবা ডিজিএফআইয়ে দায়িত্বে ছিলেন। সেনাবাহিনীতে নয়। র্যাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে, সেনাবাহিনীর অধীনে নয়, র্যাব কিভাবে ফাংশন করে তা সেনা সদরে রিপোর্টিং করে না। ডিজিএফআই সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর অফিসের অধীন। এখনো সেনা সদরের অধীন নয়। এখন ডিজিএফআই সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার অফিসের অধীন। তাদের সব কিছুই আলাদা। তবে যেহেতু তাঁরা আমাদেরই সদস্য ও ইউনিফর্মধারী, সুতরাং তাঁরা আমাদের হেফাজতে আছেন। এখন আলাদাভাবে কে কতটুকু জড়িত ছিলেন, সে বিষয়টি আমাদের কাছে এখন নাই। চার্জশিটসহ বিস্তারিত আসবে, তখনই শনাক্ত করা যাবে।’
হেফাজতে থাকা সেনা কর্মকর্তাদের নাম সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা হয়নি। মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান বলেন, এই সেনা কর্মকর্তাদের হেফাজতে রাখা হয়েছে ‘আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে’ এবং ‘প্রয়োজন অনুযায়ী’ তাঁদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, ওয়ারেন্টভুক্তদের ২২ অক্টোবরের মধ্যে আদালতে হাজির করার নির্দেশ আছে, আইনি ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে এই ওয়ারেন্ট নিয়ে। কাজেই ২২ অক্টোবর এঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার বিষয়ে আইনের ব্যাখ্যা পাওয়া সাপেক্ষে সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান বলেন, পুরো জাতি এখন নির্বাচনমুখী। ১৩-১৪ মাস ধরে সেনাবাহিনী মাঠে কাজ করছে। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নয়নে সেনা সদস্যরা বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আগামী জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের পরিমাণ তিন গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হবে বলে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। ট্রেনিং, পোস্টিং, প্রমোশনসহ সব ধরনের প্রস্তুতি চলছে। এমন সময় এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ঘটনাটি সেনা সদস্যদের মনোবলে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে। তবে সব কিছুর ঊর্ধ্বে থেকে আমরা সব সময় ন্যায়ের পক্ষে থাকব।
তিনি আরো জানান, গুমের শিকার হওয়া প্রতিটি পরিবারের প্রতি সেনাবাহিনী সহানুভূতিশীল। সব অপরাধের বিচারের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে সেনাবাহিনী বিচারপ্রক্রিয়া ও গুম কমিশনকে সহায়তা করে যাচ্ছে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘গুম কমিশন কাজ করছে। আর্মি আরেকটা কমিশন করলে সেটাকে আন্ডারমাইন্ড করা হবে। এই কমিশনকে যতটুকু সাহায্য করার সেটা করছি। সেনাপ্রধান আবারও জানিয়েছেন, ‘উইল রিমেইন স্ট্যান্ড ফার্স্ট উইথ দ্য জাস্টিস, ইভেন উইথ কম্প্রোমাইজ আওয়ার সামথিং, বাট…ইনসাফে কোনো কমতি হবে না। আমরা জাস্টিসের পক্ষে, নো কম্প্রোমাইজ উইথ ইনসাফ।’
সাবেক কর্মকর্তাদের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাবেক কর্মকর্তারা সেনা আইনের আওতায় পড়েন না। তবে তাঁরা চাইলে সেনাবাহিনীর হেফাজতে আসতে পারেন অথবা আদালতে আত্মসমর্পণ করতে পারেন। পুলিশ চাইলে তাঁদের গ্রেপ্তার করতে পারে বলেও জানান তিনি।
অভিযুক্তদের বিচার সামরিক আইনে নাকি আইসিটি আইনে হবে—এ বিষয়ে কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থান আছে কি না। এ ছাড়া অভিযুক্তরা সাজা পাওয়ার আগে তাঁদের চাকরি থাকবে কি না—এ ধরনের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আইসিটি আইন বনাম সেনা আইন, এটা মুখোমুখি বিষয়টি না বলাই ভালো। দ্বিতীয়ত, যে বিষয়টি হচ্ছে আইসিটি আইনে বলা আছে যে, অভিযোগপত্রের নাম উঠলে চাকরি চলে যাবে। এখানে প্রথম বিষয়টি হচ্ছে যে অভিযুক্ত সে কি আসলে সাজাপ্রাপ্ত? সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পরও ওই ব্যক্তির আপিলের সুযোগ থাকে। আপিল নিষ্পত্তি হওয়ার পর যদি সাজা বহাল থাকে তখন তাঁকে আমরা সাজাপ্রাপ্ত বলতে পারব। আবার দেখা যাবে এই বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে একজন খালাস পেয়ে গেলেন। খালাস পেয়ে গেলে ট্রাইব্যুনালের আইন অনুযায়ী তিনি আবার তাঁর সার্ভিসে ফিরে যেতে পারবেন। কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো, এর ভেতর দিয়ে তাঁর যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক…দেখা গেল, অনেকে মানসিক চাপ সহ্য না করতে পেরে অসুস্থ হয়ে গেলেন বা কেউ হার্ট অ্যাটাক করে ফেললেন, এগুলোর কী হবে? এগুলো কি বলা হচ্ছে মানবাধিকার?’
তিনি বলেন, ‘এখন সেনাবাহিনীতে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম আছে। কোনো কর্মকর্তার বিচার চলাকালে সেনাবাহিনীর নিয়মে বয়স শেষ হয়ে গেলে তিনি তো অবসর চলে যাবেন। তখন সে খালাস হলেও তো তাঁকে আমরা চাকরিতে নিতে পারব না। তাই ট্রাইব্যুনালের ওই আইনের বিষয়ে আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে এর ব্যাখ্যা চাইব।’
ট্রাইব্যুনাল একটি নির্দিষ্ট ডেট দিয়েছেন অভিযুক্তদের হাজির করার জন্য। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এখানে যেটা আইনগতভাবে হওয়ার কথা সেটা হবে।
কিন্তু সেই আইনগত প্রক্রিয়াটা কী হবে এবং ২২ তারিখে তাঁদের আদালতে হাজির করা যাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আইনের বিষয়ে আমরা একটি ব্যাখ্যা চাইব। ব্যাখ্যা পাওয়ার পর ২২ তারিখের বিষয়টা আমরা আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেব।’
ডিজিএফআই নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি উল্লেখ করেন, এই সংস্থাটি সম্পূর্ণই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে। তাই অভিযুক্তরা সেনা কর্মকর্তা হলেও সেখানে তাঁদের কথা বলার এখতিয়ার নেই।
মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান বলেন, ‘এ রকম না হলেও অনেক সেনসিটিভ কেসের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ৫৪ বছর পার করে এসেছে। যাঁদের নামে অভিযোগ ওঠে প্রথমে তাঁদের আমরা হেফাজতে নিয়ে নিই। তখন বিভিন্ন কোর্ট মার্শাল হয়। কোর্ট মার্শালের রায় অনুযায়ী তখন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।’
জানা যায়, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরতরা হলেন মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, মেজর জেনারেল কবির আহাম্মদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, কর্নেল কে এম আজাদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মশিউর রহমান জুয়েল ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত বুধবার মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি মামলায় ৩০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। প্রথম মামলায় র্যাবের টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে আটক ব্যক্তিদের নির্যাতনের অভিযোগে ১৭ জন এবং দ্বিতীয় মামলায় জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) নির্যাতনের ঘটনায় ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
উভয় মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে, যিনি জুলাইয়ের সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন। মামলায় আরো আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালক।
ডাকসু, বৈছাআ ও ইনকিলাব মঞ্চের দাবি : গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের নির্দেশদাতা শেখ হাসিনা এবং এ কাজে সম্পৃক্ত সামরিক, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের বিচারের দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু), বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন (বৈছাআ) ও ইনকিলাব মঞ্চ। এ বিষয়ে ভারতের বিরুদ্ধে মামলা করারও দাবি জানায় সংগঠনগুলো। গতকাল শনিবার ডাকসু ও বৈছাআ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া গতকাল ঢাবির মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় ইনকিলাব মঞ্চ।
সূত্র: টিবিটি (অনলাইন)
What's Your Reaction?