পরোয়ানাভুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের বিচারের ক্ষমতা ট্রাইব্যুনালের রয়েছে
গুমের দুটি মামলাসহ মোট তিনটি মামলায় পরোয়ানা জারি হওয়া ১৫ জন সেনা কর্মকর্তার বিচার করার এখতিয়ার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (চিফ প্রসিকিউটর) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
রোববার দুপুরে রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তাজুল ইসলাম বলেন, গুম মামলায় যেসব সেনা কর্মকর্তা বর্তমানে হেফাজতে রয়েছেন, প্রয়োজনে তাদের বিষয়ে আইনি মতামত দেওয়া হবে। তবে আইন অনুযায়ী, কাউকে গ্রেফতারের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আদালতে হাজির করতে হয়। এরপর আদালতই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতারি পরোয়ানার কপি ইতোমধ্যে সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে পৌঁছে গেছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে গুম বা হত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের বিচার করার এখতিয়ার একমাত্র ট্রাইব্যুনালেরই রয়েছে। এই আইনি ক্ষমতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।
এর আগে ১১ অক্টোবর সেনা সদর দপ্তরে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা চার্জশিটে নাম আসা সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে ১৫ জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
তবে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের কাছে এখনো কোনো গুম সংক্রান্ত পরোয়ানার কপি আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছায়নি।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, “মোট ২৫ জন সেনা কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে সাবেক ও বর্তমান উভয় সদস্য রয়েছেন।
এর মধ্যে একজন অবসরোত্তর ছুটিতে (এলপিআর) আছেন এবং ১৫ জন সক্রিয় কর্মকর্তাকে সেনা সদর দপ্তরে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ৯ অক্টোবরের মধ্যে সবাই উপস্থিত হয়েছেন, কেবল মেজর জেনারেল কবীর আহম্মদ ছাড়া।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া আইনি কাঠামোর মধ্যেই এগিয়ে যাবে এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান ন্যায়বিচার নিশ্চিতে সহযোগিতা করবে।
What's Your Reaction?