ভূমধ্যসাগরে মরণযাত্রায় শীর্ষে বাংলাদেশ
ভাঙাচোরা নৌকা ও বিপজ্জনক সামুদ্রিক রাস্তায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশিদের সংখ্যা।
চলতি বছরে মোট অনিয়মিত ইউরোপ অভিবাসন কমলেও এই রুটে প্রবেশকারীর সংখ্যা বাড়েছে পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে ৫০,৮৫০ জন এই পথে ইউরোপে পৌঁছেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি।
শুধু এ মাসে এই পথে পৌঁছেছেন ৮,০৪৬ জন।
ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রনটেক্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৩৩,৪০০ জন অনিয়মিতভাবে ইউরোপে প্রবেশ করেছে; এই সংখ্যার মধ্যে শীর্ষভাগ দখল করেছে বাংলাদেশ, মিসর ও মরক্কোর নাগরিকরা।
যদিও সাধারণত কড়াকড়ি ও সীমান্তে নজরদারির কারণে সার্বিক অনুপ্রবেশ হ্রাস পেয়েছে, ভূমধ্যসাগরীয় রুট এখনও সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ পথ হিসেবে রয়ে গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী পশ্চিম আফ্রিকা রুটে অনুপ্রবেশ ৫৮ শতাংশ, পশ্চিম বলকান রুটে ৪৭ শতাংশ ও পূর্ব ইউরোপীয় স্থলসীমান্ত রুটে ৩৬ শতাংশ কমেছে।
তবু মধ্যভূমধ্যসাগর রুটের মাধ্যমে ইতালিতে আগমন সর্বোচ্চ—পুরো ইউরোপজুড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ অনিয়মিত অভিবাসী এই রুট থেকেই এসেছেন। অন্যদিকে পশ্চিম ভূমধ্যসাগর রুটে অনুপ্রবেশ ২৮ শতাংশ বাড়তি দেখা গেছে।
সেপ্টেম্বরে মধ্যভূমধ্যসাগর রুটে প্রবেশ লক্ষ্যণীয়ভাবে বেড়ে গেছে; এই ঝাঁপের মধ্যে আলজেরিয়া থেকে যাত্রা করা অভিবাসীরা প্রায় তিন-চতুর্থাংশ অংশীদারী ছিলেন।
আর ফ্রান্স হয়ে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে অনুপ্রবেশের চেষ্টা বেড়েছে ১৪ শতাংশ; সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫৪,৩০০ জনের মতো মানুষ যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং অন্যান্য সূত্র জানায়, যদিও মোট অনুপ্রবেশ কিছুটা কমেছে, মানবিক সংকট এখনও গভীর।
এবছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অন্তত ১,২৯৯ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে এই সংখ্যা প্রমাণ করে যে বহু মানুষ জীবনের বাজি রেখে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
What's Your Reaction?